নিজ চোখে দেখা এক অভিজ্ঞতা আবারও প্রমাণ করল—কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কতটা দায়িত্বহীন। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পরিবারের অসুস্থজনকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থানকালে যে ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হলো, তা সত্যিই দুঃখজনক হলেও আমাদের স্বাস্থ্যখাতের এক চিরন্তন বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে।
দৈনিক জনতার মতামত–এর সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মো. শাহজাহান বাশার জানান, পরিবারের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে তিনি firsthand এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। তাঁর ভাষায়, “বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়নি।”
দুপুর ২টায় সিরিয়াল পাওয়ার পর আধা ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রিপোর্ট হাতে আসে না। খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, হেল্পডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি রিপোর্ট রুমে বসার পরিবর্তে রোগীদের রক্ত সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন। যখন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় রিপোর্ট দেরি হওয়ার কারণ, তিনি সাফ জানিয়ে দেন—“আমার দুইটা কাজ, তাই ডেক্সে নিয়মিত বসতে পারি না।”
পরে ইনচার্জ গিয়াস সাহেবের খোঁজ করতে গেলে রিপোর্ট রুমে তাঁকে পাওয়া যায়। মাথায় টুপি, মুখে সুন্নতি লেবাস আর দাড়ি রাখা এই ভদ্রলোক নিজেকে পরিচয় দিয়ে বলেন—“জি, আমি গিয়াস। কীভাবে সাহায্য করতে পারি?” তবে সাংবাদিক পরিচয় জানার পরই তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট—ডাক্তাররা মূলত রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্যই নিয়োজিত। কিন্তু হাসপাতালের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ডাক্তাররা সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে রোগীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি হাসপাতালের বদনামও বাড়ছে।
এ সমস্যাটি শুধু কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের নয়; দেশের প্রায় সব সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরেই একই চিত্র। তাই স্থানীয় সাংবাদিকসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে—প্রতিদিন সামান্য হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিতে হবে।
এতে—হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত হবে,সঠিক তথ্য জনগণের সামনে আসবে,ডাক্তাররা চিকিৎসায় মনোযোগ দিতে পারবেন,রোগীরাও যথাযথ সেবা পাবেন। পাশাপাশি হাসপাতাল মালিকরাও প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।
সাংবাদিক সহকর্মীদের প্রতি শাহজাহান বাশার এর আহ্বান :কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতাল সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে নানান অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। আজকের অভিজ্ঞতা তারই প্রমাণ। তাই কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যসহ সকল সহকর্মী ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—দেশ ও মানুষের স্বার্থে এই বিষয়ে জরুরি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আশা করি, সাংবাদিকদের কলম ও কর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্য চিকিৎসা পাবে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বাধ্য হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।