প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 27, 2025 ইং
গাজায় একদিনে নিহত ৬০, মোট প্রাণহানি প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬০ জন নিরীহ মানুষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪২ জন।
শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মরদেহ চাপা পড়ে আছে এবং সীমিত লোকবল ও সরঞ্জামের কারণে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, গত দুই বছরের অভিযানে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি, আর আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫১৮ জন।
শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ সংগ্রহের সময়ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার ত্রাণ নিতে গিয়ে সেনাদের গুলিতে নিহত হন আরও ৫ জন, আহত হন অন্তত ৩৩ জন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে আকস্মিক আক্রমণ চালায়। ওইদিনের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং অন্তত ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপরই হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনারা। যা টানা প্রায় দুই বছর ধরে চলছে।
গাজায় নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
এছাড়া জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)-এও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে। তবে এসব আন্তর্জাতিক চাপকে উপেক্ষা করে নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন— হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবারের হামলাতেও গাজায় আবারও রক্ত ঝরল। হাজার হাজার মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান আসলেও, গাজা উপত্যকায় এখনো চলছে আগুন-বারুদের খেলা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারী : ESOMOY