
মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ (সোমবার): নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বৃহত্তর সুন্নী জোটের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত। তাই একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে— যাতে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মহাখালীস্থ এক সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর সুন্নী জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জরুরি সভায় এ সব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম. এ. মতিন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও পীরে-তারিকত আল্লামা ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর চেয়ারম্যান পীরে-তারিকত ড.সাইফুদ্দীন আল হাসানী আল মাইজভাণ্ডারী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর মহাসচিব শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা স. উ. ম. আবদুস সামাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব মুহাম্মদ আসলাম হোসাইন প্রমুখ।
সভায় আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে তিন দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবদের সমন্বয়ে ৬ সদস্যের একটি নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।
এছাড়া জোট সম্প্রসারণ ও আন্তঃদলীয় যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন— স. উ. ম. আবদুস সামাদ. মুহাম্মদ আসলাম হোসাইন, আল্লামা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী, আল্লামা মোশাররফ হোসেন হেলালী. মুহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া,গোলাম মাহমুদ ভূঁইয়া মানিক,ঢালি কামরুজ্জামান হারুন।
এছাড়াও, গণমাধ্যমে জোটের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে ৬ সদস্যের একটি মিডিয়া কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন— অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইব্রাহীম আখতারী. মুহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া, ঢালি কামরুজ্জামান হারুন. আব্দুল হাকিম. নুরুল্লাহ রায়হান খান. এস. এম. তারেক হোসাইন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামি নির্বাচনে জাতীয় স্বার্থ, ইসলামি মূল্যবোধ এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর সুন্নী জোট ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়— কিন্তু সেই পরিবর্তন হতে হবে সংবিধান ও ন্যায়ের পথ অনুসরণ করে।”
সভা শেষে সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা এম. এ. মতিন বলেন, “আমরা রাজনীতি করি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, বিভাজন নয়— ঐক্যের জন্য। যারা ইসলাম ও মানবতার নামে বিভাজন সৃষ্টি করে, তারা দেশের জন্য নয়; বরং নিজেদের স্বার্থের জন্য কাজ করছে। বৃহত্তর সুন্নী জোট সেই বিভাজন নয়, ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”