মোঃ শাহজাহান বাশার। সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে ছাপানোর অভিযোগ স্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, ছাপানোর স্থান বা প্রক্রিয়া কোনোভাবেই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করেনি।
বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অভিযোগ তোলে যে, ডাকসুর ব্যালট পেপার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে না ছাপিয়ে নীলক্ষেতে মুদ্রণ করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, সংশ্লিষ্ট সহযোগী ভেন্ডর নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেনি।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, সংশ্লিষ্ট সহযোগী ভেন্ডর নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেনি।
তিনি জানান, ভেন্ডর লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছে যেখানে তারা স্বীকার করেছে—
“২২ রিম কাগজ ব্যবহার করে নীলক্ষেতে ৮৮ হাজার ব্যালট ছাপানো হয়। প্রিন্টিং, কাটিং, প্রি-স্ক্যান ও অন্যান্য ধাপ শেষে সিলগালা করে মোট ৮৬ হাজার ২৪৩টি ব্যালট বিশ্ববিদ্যালয়কে সরবরাহ করা হয়। অতিরিক্ত ব্যালটগুলো প্রচলিত নিয়মে ধ্বংস করা হয়েছে।”
ভেন্ডরের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন,
“নীলক্ষেতে কাটিং শেষে প্রি-স্ক্যানের জন্য তারা মূল অফিসে ব্যালট নিয়ে যায়। সেখানেই নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়। ব্যস্ততার কারণে কর্তৃপক্ষকে নীলক্ষেতে প্রিন্টিংয়ের বিষয়টি তারা জানাতে ভুলে গেছে।” উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান দাবি করেন,
“ব্যালট ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না। চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সীল-স্বাক্ষর এবং কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর যুক্ত হলেই ব্যালট ভোট গ্রহণের জন্য উপযুক্ত হয়।”
তিনি বলেন, ব্যালট তৈরি করতে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়—কাটিং, সুরক্ষা কোড আরোপ, ওএমআর মেশিনে প্রি-স্ক্যান, তারপর সীল ও স্বাক্ষর সংযোজন। এসব ধাপ সম্পন্ন করেই পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল বলে নির্বাচন কমিশনের তথ্য উল্লেখ করেন উপাচার্য।
এছাড়া তিনি জানান, ভোটের দিনের সিসিটিভি ফুটেজ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন সাপেক্ষে দেখা যাবে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য কার্যত নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করলেও তাদের দাবি, এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতায় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সমালোচকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বাইরে ব্যালট ছাপানো নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
মোঃ শাহজাহান বাশার