মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা আটটি বিষয়ে শপথ নিয়েছেন। নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা, নারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তারা।
রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বটতলায় এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শপথপাঠ অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম শপথবাক্য পাঠ করান। এতে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদের মোট ২০৫ জন প্রার্থী অংশ নেন।
প্রথম দফা: শপথে বলা হয়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি আনন্দময়, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ঘৃণিত গণরুম প্রথা, গেস্টরুম নির্যাতন ও জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদানের সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই ফিরিয়ে আনা হবে না।
দ্বিতীয় দফা: পূর্বসূরিদের মতো সংগ্রামের অঙ্গীকার করা হয়। শপথে স্মরণ করা হয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তঝরা দিনগুলো, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং সাতচল্লিশের দেশভাগের আন্দোলনের ইতিহাস। বলা হয়, ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তৃতীয় দফা: নারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নারীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত করে তোলা হবে। তাঁদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন, সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
চতুর্থ দফা: শিক্ষার্থীদের জন্য বৈধ সিটের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করা হয়। পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সহজ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার শপথ নেওয়া হয়।
পঞ্চম দফা: শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সাইবার বুলিং, ভুয়া তথ্য, গুজব ও ফেক নিউজের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে শপথে উল্লেখ করা হয়।
ষষ্ঠ দফা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সপ্তম দফা: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে শিষ্টাচার ও সৌজন্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বলা হয়, সর্বদা গণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিফলন ঘটানো হবে।
অষ্টম দফা: শপথের প্রতিটি শব্দ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। নির্বাচিত হলে জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে এই শপথ বাস্তবায়ন করা হবে।
শপথপাঠ শেষে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি, একটি সফল ডাকসুর প্রত্যাশা থেকে, একটি সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকে শিক্ষার্থীরাও এই শপথের অংশীদার হবেন। আমাদের প্যানেলের প্রতিটি প্রার্থীকে শিক্ষার্থীরা মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।”
শপথপাঠ অনুষ্ঠানে ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থীরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা কেবল নির্বাচনে জয়লাভের জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তারা যেন এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবে রূপ দেন।
মোঃ শাহজাহান বাশার