নিউজ ডেস্কঃ
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি'তসেলেম (B'Tselem) বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর গাযায় খাদ্য সহায়তার সন্ধানে থাকা ২৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করেছে।
সংস্থাটি জিকিম ক্রসিং-এর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা ১২ই সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত উত্তর গাজার সাহায্য পৌঁছানোর একমাত্র প্রবেশদ্বার ছিল। বি'তসেলেম জানায়, বেসামরিক নাগরিকরা খাদ্যের জন্য মরিয়া হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে সেখানে পৌঁছালেও তাদের ওপর ইসরায়েলি গুলি চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেন যে, গুলির মুখে অসংখ্য মানুষ সাহায্যের ট্রাকের দিকে ছুটে যায়। এই সময় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয় এবং উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
নিহতদের মধ্যে আহমদ আবু রুকবা ছিলেন। তার ভাই তালাল বি'তসেলেমকে জানান যে, জিকিদের কাছে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করার পর তারা এক বস্তা আটা জোগাড় করতে সক্ষম হন। ফেরার পথে আবারও তীব্র গুলি শুরু হয় এবং আহমদের বুকে গুলি লাগে। তালাল তার জামা দিয়ে রক্তপাত থামানোর চেষ্টা করলেও আহমদ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বি'তসেলেম জানিয়েছে, মে মাস থেকে সাহায্য বহরের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় ২৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১৮,৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই মানবাধিকার গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজার চলমান গণহত্যার অংশ হিসেবে দুর্ভিক্ষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।
জুলাই মাসে, বি'তসেলেম এবং ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-ইসরায়েল' ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনে। তারা ফিলিজিনি সমাজের পদ্ধতিগত ধ্বংস এবং গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ইচ্ছাকৃত ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ৬৫,৫০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। লাগাতার বোমা হামলায় গাজা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং সেখানে দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।
তথ্যসূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি।
মোঃ মনিরুজ্জামান