বিশেষ প্রতিনিধি:
এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম ফারুক হোসেন। অনিয়োম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সিলেট,খুলনা, ফরিদপুর ও সাতক্ষীরায় অনুসন্ধান করছে আমাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি দল। তাদের পাঠানো তথ্যের উপর ভিত্তি করে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হল।
ফেসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসোর কে এম ফারুক হোসেন। এলজিইডির বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন ফারুক হোসেন। আওয়ামী শাসনামলে এলজিইডিতে তার প্রভাব ছিল ব্যপক। সেই সুবাদে সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী যখন যেখানে যে পদে ছিলেন সেখানেই ছিলেন ক্ষমতা ধর। ফরিদপুরের আওয়ামী সন্ত্রাসী রুবেল- বরকতের সাথে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। শেখ হাসিনার বিয়াই প্রভাবশালী মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ছিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী। রুবেল - বরকত ছিল মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনর দুই সিপাহ সালার। ওই সময় সকলে জানত রুবেল- বরকত মোশারফের দুই লড়াকু। তাদের সাথে সম্পর্কের কারনে নিয়োম নীতির তোয়াক্কা না করে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদোন্নতি পাওয়ার দু' মাসের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জেলা ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর পোস্টিং বাগিয়েনেন। এলজিআরডি মন্ত্রীর নিজের জেলা আবার তিনি প্রধান মন্ত্রীর মেয়ে পুতুলের শ্বশুর সুতরাং ওই জেলার ভার বহন করা সহজ নয়। সূত্র জানায় ফারুক হোসেন ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় রুবেল - বরকতের সহায়তায় এক রাস্তার জন্য একাধিক প্রকল্প থেকে বরাদ্দ নিয়ে একটি টেন্ডারে কাজ করিয়ে সব টাকা উঠিয়ে রুবেল - বরকত ও ফারুক হোসেন ভাগাভাগি করে নিতেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে এমন রাস্তা আছে যেটি উন্নয়নের জন্য একই সাথে চারটি প্রকল্প থেকে বরাদ্দ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে একই রাস্তা অথচ নাম একটু পরিবর্তন করে ভিন্ন ভিন্ন আইডি তৈরি করে একই সাথে সব গুলো প্রকল্প থেকে বরাদ্দ নিয়ে একটির জন্য টেন্ডার আহ্বান করে কাজ সম্পন্ন করে অন্য সব প্রকল্প থেকে বিল উঠিয়ে ভাগাভাগি করেছেন। এমনো দেখা গেছে ভাল রাস্তা অথচ মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে মেন্টেনেন্স থেকে মোটা অংকের বরাদ্দ করিয়েছেন এবং ভুয়া টেন্ডার দেখিয়ে আবার কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উঠিয়েছেন। শুধু তাই নয় অনেক রাস্তার কাজ না করে ভুয়া টেন্ডার দেখিয়ে কাজ সম্পাদন দেখিয়ে বিল উঠিয়ে ভাগাভাগি করেছেন। এলজিইডিতে ই-টেন্ডারের নামে লটারি করে কাজ ভাগাভাগি করে। ফারুক হোসেন মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে লটারির নামে কাজ পাইয়ে দিতেন।
সূত্র জানায় ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা কালিন সময় ফারুক হোসেন প্রায়ই আগারগাঁওস্থ এলজিইডি ভবনে থাকতেন এবং ফরিদপুর রিলেটেড প্রকল্পে ঘুরে বেড়াতেন। তখন প্রকল্প পরিচালকরা ও ফরিদপুরের জন্য বরাদ্দ দিতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করতেন। শুধু তাই নয় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীও ফারুক হোসেনকে খুব সমিহ করতেন। জানা যায় মন্ত্রীর এলাকা হওয়ায় মোবাইল মেন্টেনেন্স,অফিস মেরামত সহ অন্যান্য কাজে প্রচুর বরাদ্দ পেত। নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম ফারুক হোসেন ও রুবেল বরকত মিলে ২০ ভাগ টাকার কাজ করত বাকি টাকা ভুয়া বিল ভাউচার করে ভাগা ভাগি করত।সূত্র জানায় ফরিদপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় নানান অনিয়ম ও দুর্নীতি করে ফারুক হোসেন শত কোটি টাকা কামিয়েছেন। সূত্র আরো জানায় মোশাররফ হোসেনের সাথে শেখ হাসিনার বিরোধ ও পরে মন্ত্রী পরিষদ থেকে বাদ পড়লে ফারুক হোসেনের দিন কাল খারাপ ছিল কিছু দিন, এর পর তার সাথে পরিচয় হয় মহারাজের। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর সাবেক সাংসদ মহারাজকে কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে সিলেটে পোস্টিং নেয় ফারুক হোসেন। এখনও বহাল তবিয়তে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কামাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। ইতোমধ্যে তিন কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি কর নথিতে অনেক তথ্য গোপন করেছেন এরমধ্যে ৮০ টি এফডিআর এবং কর নথিতে মেয়ের নামে মাছের ঘের ও পল্ট্রি ফার্মের উল্লেখ থাকলেও কর তদন্ত দল তার অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। দুদক কে এম ফারুক হোসেন তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন ও মেয়ে তাহমিনা ফাতেহা ফারুকের সকল ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এতো কিছু হওয়ার পর ও তার বিরুদ্ধে এলজিইডি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। শোনা যায় মন্ত্রনালয়ে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে সব ম্যানেজ করে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি দাম্ভিকতা দেখিয়ে "এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন" বলে উড়িয়ে দেন।
(চলবে)