মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্নে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটায় অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। মহাসড়কে নির্বিঘ্ন যান চলাচল ও দুর্ঘটনা রোধে নতুন নিরাপদ ইউটার্ন নির্মাণ এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টের সামনে থাকা সব বাস কাউন্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার।


সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান, কুমিল্লা সেনাবাহিনীর ২৩ বীর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা, বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আলম, চার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
জেলা প্রশাসক বলেন,“মহাসড়কে নতুন ইউটার্নগুলো প্রশস্ত ও নিরাপদ করে নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউটার্ন এলাকায় একটি করে অতিরিক্ত লেন বাড়ানো হবে, যাতে যানবাহন নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারে। দ্রুতই এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে।”
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে থাকা ইউটার্ন থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিটার দূরে নতুন ইউটার্ন তৈরি হবে। পাশাপাশি আলেখার চর এলাকায় যুদ্ধজয় ভাস্কর্যের দক্ষিণ পাশে শহরমুখী লেনে প্রবেশ করা বাসগুলোর জন্য আরেকটি নিরাপদ ইউটার্ন করা হবে।
হোটেল ও ফুয়েল স্টেশনের সামনে থাকবে না বাস কাউন্টার
সভায় জানানো হয়, মহাসড়কের পাশে থাকা হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও ফুয়েল স্টেশনের সামনে থেকে সব বাস কাউন্টার তুলে ফেলা হবে। পদুয়ারবাজারের দক্ষিণ পাশে ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকেও সব স্টপেজ ও কাউন্টার সরিয়ে দেওয়া হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, পদুয়ারবাজারে চলমান ইউলুপ প্রকল্পের ২৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মোট ৫৭টি আপত্তির মধ্যে একটি শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সব শুনানি শেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে জেলা প্রশাসন।
গত ২২ আগস্ট, শুক্রবার পদুয়ারবাজার ইউটার্নে একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর উল্টে পড়ে যায়। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্নটি বন্ধ করে দিয়ে বিকল্প হিসেবে দয়াপুর ইউটার্ন দিয়ে সাময়িকভাবে যান চলাচলের নির্দেশ দেয়। নতুন ইউটার্ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, নতুন ইউটার্ন এবং অবৈধ বাস কাউন্টার অপসারণের ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমে আসবে এবং যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত হবে।