ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার দাবীতে সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 26, 2025 ইং
মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার দাবীতে সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও  মানববন্ধন ছবির ক্যাপশন: সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
ad728
মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার দাবীতে সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও  মানববন্ধন

মো:জাকির হোসেন সৈয়দপুর প্রতিনিধি: নীলফামারীর  সৈয়দপুর পৌরসভার দুই  কর্মচারী মারপিটের ঘটনায় করা মামলা মিথ্যে দাবি করে তা প্রত্যাহারের জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও  মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের ব্যানারে সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় মডার্ণ পাবলিক টয়লেটের সামনে এই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।  

এতে বক্তব্য রাখেন, মামলায় প্রধান আসামী শেখ শুভ'র বাবা সাহিদ হোসেন, ভাই শেখ নিলয়। তারা বলেন, শেখ শুভ একজন জুলাই যোদ্ধা ও সমাজকর্মী এবং ব্যবসায়ী। তাঁকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আসামি করা হয়েছে। মূলত: পৌরসভার তত্বাবধানে চালিত মডার্ণ পাবলিক টয়লেটের সামনের বিশাল জায়গা দখল করে আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছে। 

এখানে কয়েকটি অস্থায়ী দোকান করে ভাড়া দেয়াসহ দিনেরাতে প্রকাশ্যে মাদকের আড্ডা, জুয়াসহ নানা অপকর্ম করা হয়। সম্প্রতি শাহীন ওই জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এতে বাধা দিয়ে স্থানীয় লোকজন তা নিজেদের আয়ত্বে নেয়। এমতাবস্থায় গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী সুজন শাহ ও পানি শাখার বিল ক্লার্ক মোকছেদ আলী বুলডোজার ওই জায়গায় এসে বুলডোজার দিয়ে দোকানগুলো গুড়িয়ে দেয়। এতে দোকানদার ও এলাকাবাসী রুখে দাঁড়ায়। 

এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জনতার প্রতিরোধে তারা চলে যায়। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পর ৩০-৪০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী এসে তান্ডব চালায় এবং উল্টো ব্যবসায়ী ও এলাকার নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ইতোমধ্যে ওয়াকার ও রাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অথচ ওয়াকার ঘটনার সাথে জড়িত বা উপস্থিতই ছিলোনা। একইভাবে যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা কেউ মারপিট করেনি।  

আরেক আসামী রাজনের বাবা ইকবাল, স্ত্রী মনি বেগম বলেন, ওই দুই পৌর কর্মচারী মূলত: চাঁদাবাজি করতে এসেছিল। তাই ক্ষুব্ধ দোকানদার তাদের প্রতিরোধ করেছে মাত্র। এতোদিন আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন দখল করে থাকলো, তাতে পৌরসভা কিছু করলোনা। আর এখন ওই দখলবাজের কাছ থেকে দোকানীরা মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করায় এবং মাদক ও জুয়ার আড্ডা বন্ধ করায় পৌরসভা দোকান গুড়িয়ে দিয়ে কতগুলো মানুষের পেটে লাথি মেরেছে এবং মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। 

ওয়াকারের বাবা মো. সাকিল, আমার ছেলে ঘটনার সময় অনুপস্থিত থাকলেও তাকে আসামি করে গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ২৫-৩০ টি পরিবারকে মিথ্যে মামলায় হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি করতে হবে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার রাজন ও ওয়াকারকে জামিন দিতে হবে। নয়তো বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়ে সব দোকান বন্ধ করে দেয়া হবে। 

বক্তাদের দাবি মূলত: আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন পৌরসভার একজন কর্মকর্তার শ্যালক হওয়ার পৌর কর্মচারীরা তার নির্দেশে ১৭ জুলাই পুনর্দখল করতে এসেছিল। কিন্তু জনপ্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে আক্রোশ মুলকভাবে মারপিটের নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ ও প্রতিবাদী মানুষগুলোকে ফাঁসিয়েছ। সেদিন কে বা কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে তা তদন্ত করে তারপর মামলা করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে ওই দুই পৌর কর্মচারী ঢালাওভাবে সবাইকে মিথ্যে মামলা দিয়ে নিজেদের চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপকর্ম ঢাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতিদ্রুত এর সুরাহা না করলে পৌর প্রশাসক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে হুশিয়ারী দেয়। 

এব্যাপারে পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর ই আলম সিদ্দিকীর দেখা পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোন বার বার কল করা হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 


নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ মনিরুজ্জামান

কমেন্ট বক্স
জার্নালিস্ট কো-অপারেশন অব বাংলাদেশ গাজীপুর জেলা কমিটির আনুষ্

জার্নালিস্ট কো-অপারেশন অব বাংলাদেশ গাজীপুর জেলা কমিটির আনুষ্