নটীর মসজিদ রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চান প্রবাসী দানবীর মোশাররফ হোসেন
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Sep 18, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: নটীর মসজিদ রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চান প্রবাসী দানবীর মোশাররফ হোসেন
মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভাণ্ডার কুমিল্লা। এই জেলার বুকেই গোমতী নদীর তীরে প্রায় তিন শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে আছে রহস্যময় ও বেদনাবিধুর এক স্থাপনা—নটীর মসজিদ। সময়ের নির্মম পরিক্রমায় ভগ্নদশায় পড়লেও এখনো এটি স্থানীয় ও জাতীয় ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তবে কার্যকর সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মসজিদটি আজ বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকা প্রবাসী, কুমিল্লার কৃতি সন্তান, দানবীর ও শিক্ষানুরাগী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কুমিল্লা সোসাইটি ও নর্থ আমেরিকার সাবেক সভাপতি এবং ব্রাহ্মণপাড়া মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত এই সমাজসেবক মনে করেন, “নটীর মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার স্মারক, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ অপরিহার্য।”
তিনি বলেন—
“এই মসজিদ আমাদের ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ। এটি হারিয়ে গেলে শুধু একটি ভবন হারাবে না, আমরা হারাব আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের ইতিহাসের একটি অধ্যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ ইতিহাস জানাতে হলে অবিলম্বে মসজিদটির সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। আমি জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে অনুরোধ করছি, যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”

স্থানীয় জনশ্রুতি মতে, তৎকালীন ত্রিপুরা মহারাজার দরবারে খ্যাতনামা বাইজি নূরজাহান ছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই গড়ে ওঠে এই নটীর মসজিদ। নির্মাণ শেষে প্রথম নামাজে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নামাজ আদায় ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আর এখানে আজান বা জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।
অপমান ও বেদনা সইতে না পেরে নূরজাহান আত্মাহুতি দেন। সেই করুণ কাহিনি আজও লোকমুখে প্রবাহিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বটগাছের বিশাল শেকড়ে জড়িয়ে থাকা এই মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব সাক্ষী হয়ে।
বছরের পর বছর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার নটীর মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তারা একে সংরক্ষণের যোগ্য ঘোষণা করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় মসজিদটি ক্রমশ ধ্বংসের মুখে যাচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে মসজিদটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই কুমিল্লার বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, লেখক ও শিক্ষাবিদরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন—কলামিস্ট হাসান ইমাম মজুমদার, সাংবাদিক এনামুল হক ফারুক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট শাহজাহান চৌধুরী, সাংবাদিক মহিউদ্দিন মোল্লা, দৈনিক রূপসী বাংলার সম্পাদক তরুণ, আবুল কালাম আজাদ (সম্পাদক, কুমিল্লার কাগজ), সাংবাদিক ও কলামিস্ট ইয়াসমিন রিনা, জাকির আজাদ, শাহজাদা এমরান, সৈয়দ আহমেদ লাভলু, গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির প্রমুখ।
এছাড়া, দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ও গীতিকার আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, কুমিল্লা প্রতিদিন সম্পাদক মো. সুমন শরীফ, সাংবাদিক মারুফ হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও একযোগে নটীর মসজিদ রক্ষার দাবি তুলেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে নটীর মসজিদ শুধু কুমিল্লার ঐতিহ্যের গর্ব হবে না, বরং এটি জাতীয় পর্যায়ে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতে এক সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন—“আমি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সাংবাদিক সমাজ, সুশীল মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। নটীর মসজিদকে বাঁচাতে হবে। কারণ এটি শুধু একটি প্রাচীন স্থাপনা নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“আমরা চাই, সাংবাদিক সমাজ এ বিষয়ে আরো সরব হোক, নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হোক, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। সবাই মিলে যদি এগিয়ে আসি, তবে নটীর মসজিদ আগামী প্রজন্মের কাছে গৌরবের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
মোঃ শাহজাহান বাশার
কমেন্ট বক্স