ঢাকা | বঙ্গাব্দ

স্বাগতম হে মাহে বরকত রবিউল আউয়াল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 26, 2025 ইং
স্বাগতম হে মাহে বরকত রবিউল আউয়াল ছবির ক্যাপশন: স্বাগতম হে মাহে বরকত রবিউল আউয়াল
ad728

লেখক: মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 

তুমি সেই মহিমান্বিত মাস, যে মাসে বিশ্বজগত অন্ধকার থেকে আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিল। তুমি সেই মাস, যে মাসে আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, মানবতার মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। তাই এই মাস শুধু একটি স্মরণীয় মাস নয়, বরং এটি রহমত, বরকত ও কৃতজ্ঞতার মাস। সারা মুসলিম উম্মাহ এ মাসের আগমনে আনন্দিত, আবেগাপ্লুত ও কৃতজ্ঞ।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে তাঁর প্রিয় নবীর আগমনকে রহমত হিসেবে ঘোষণা করেছেন:“আর আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ সা.) সমগ্র জগতবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।”(সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭),আবার আল্লাহ বলেন:“বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের কারণে তারা আনন্দিত হোক। সেটাই তাদের জন্য উত্তম, যা তারা সঞ্চয় করছে।”
(সূরা ইউনুস: ৫৮),মুফাসসিরগণ এখানে "আল্লাহর রহমত" দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বোঝিয়েছেন। সুতরাং তাঁর জন্মের মাসে আনন্দ প্রকাশ করা সরাসরি কোরআনের নির্দেশিত বিষয়।

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে:রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। একবার সাহাবারা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: “এ দিনেই আমার জন্ম হয়েছে এবং এ দিনেই আমাকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছে।”(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১১৬২) ,অতএব নবীজী (সা.) নিজেই তাঁর জন্মদিনকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতার সাথে পালন করেছেন। সুতরাং মাহে রবিউল আউয়ালে তাঁর জন্মকে স্মরণ করা, ইবাদতের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করা—এটি সুন্নাহ দ্বারা সমর্থিত।

ইসলামী আলেম ও ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত মত হলো—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মকে স্মরণ করা, তাঁর জন্য দরুদ-দোয়া করা এবং তাঁর আগমনের মাহাত্ম্য প্রকাশ করা মুস্তাহাব ও প্রশংসনীয় কাজ।

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন:“রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা, শোকরিয়া আদায় করা ও মিলাদ করা নেক কাজ।”

ইমাম সুয়ূতি (রহ.) তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন:“রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিনে আনন্দ প্রকাশ করা ও মজলিস করা মুস্তাহাব এবং এর মাধ্যমে রহমত ও বরকত লাভ হয়।”

শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহ.) লিখেছেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম স্মরণে দুরুদ পাঠ করা মানুষের ঈমানকে শক্তিশালী করে।”

কিয়াস বা তুলনামূলক যুক্তি দ্বারা নবীর জন্মে আনন্দ প্রকাশ করার প্রমাণ আরও সুস্পষ্ট। রমজানে কোরআন নাজিল হওয়ার ঘটনায় আমরা আনন্দ করি। বদর বিজয়ের দিনে সাহাবারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন। সন্তান জন্মালে আকীকা করা ও দাওয়াত দেওয়া আমাদের প্রথা।

তাহলে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নেয়ামত—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করাও অবশ্যই বৈধ, বরং সর্বোত্তম কাজ।

আউলিয়ায়ে কেরাম রবিউল আউয়াল মাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। খাজা গরীব নবাজ মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.) তাঁর দরগাহে এ মাসে বিশেষ মিলাদ ও দুরুদ মাহফিলের আয়োজন করতেন। ইমাম বুসিরী (রহ.) নবীজীর জন্মের মাহাত্ম্য প্রকাশ করে তাঁর অমর কাসিদা বুরদা শরীফ রচনা করেন।

ভারত উপমহাদেশসহ সারা দুনিয়ার দরবার, খানকাহ, মসজিদে এ মাসে বিশেষ মাহফিল চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া।বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা। গরিব-অসহায়দের সাহায্য করা। নবীর চরিত্র ও আদর্শকে সমাজে বাস্তবায়ন করা। ভ্রাতৃত্ব, দয়া ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা।

তুমি আমাদের জন্য রহমতের মাস, আলো ও বরকতের মাস। তোমার আগমনে আমরা নবীর ভালোবাসায় উদ্বেলিত হই, দরুদে মুখরিত হই, ইবাদতে মনোনিবেশ করি। কোরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াস—সবকিছু মিলিয়ে প্রমাণিত যে, নবীর জন্ম উপলক্ষে আনন্দ করা ঈমানের পরিচায়ক এবং কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।

আসুন, আমরা এ মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরি, দরুদে ভরি জিহ্বা, আর ভালোবাসা ও সেবায় ভরি মানবতা। এভাবেই প্রকৃত স্বাগতম জানানো হবে মাহে বরকত রবিউল আউয়ালকে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ শাহজাহান বাশার

কমেন্ট বক্স
চট্টগ্রামে নারী-পুরুষ সম্পর্কিত প্রচলিত ভুল ধারণা মোকাবিলায়

চট্টগ্রামে নারী-পুরুষ সম্পর্কিত প্রচলিত ভুল ধারণা মোকাবিলায়