সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ শাহজাহান বাশার
বাংলাদেশ, ২৫ আগস্ট ২০২৫:
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বড় দরবারের প্রতিনিধিত্বকারী, বিশ্ববরেণ্য সুফি ব্যক্তিত্ব, শাজরার দিক দিয়ে হাসানী ও হুসাইনী উভয় রক্তধারা বহনকারী মহান আধ্যাত্মিক নেতা হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (মদ্দাজিল্লাহুল আালী) দীর্ঘ বিভাজনের অন্ধকারে নিমজ্জিত সুন্নীয়তকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের বিভিন্ন গ্রুপ মতপার্থক্য ও মতবিরোধের কারণে বিভাজিত ছিল। বারবার চেষ্টা করেও শীর্ষ মুরব্বিরা ঐক্যের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। ফলে কোটি সুন্নী জনতা আশাহত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে থাকেন।
এহেন পরিস্থিতিতে সামনে এগিয়ে আসেন হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (মা:জি:আ:)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—
“আমার পদ-পদবীর দরকার নেই, সুন্নীয়তের ঐক্যই আমার একমাত্র মিশন।”
এ মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে দিন-রাত সব ব্যস্ততা উপেক্ষা করে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের সর্বত্র ছুটে বেড়িয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি আহলে সুন্নাতের শীর্ষ নেতাদের একত্রিত করে ঐক্যের বার্তা প্রচার করেছেন।
অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টা সফল হয়। দেশের সকল গ্রুপকে একত্রিত করে তিনি ঐক্যবদ্ধ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’ত উপহার দেন। ঐতিহাসিকভাবে এ দিনটির তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়, কারণ এটি ছিল হযরত ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাত দিবস।
ইমাম হাসান (আ.) ছিলেন মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। তিনি বিভাজন, সংঘাত, রক্তপাত ও অরাজকতা থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করতে নিজের খিলাফতের পদত্যাগ করেছিলেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে অদ্বিতীয় দৃষ্টান্ত।
উল্লেখযোগ্য যে, হুজুর কেবলা হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (মা:জি:আ:) হলেন হযরত ইমাম হাসান (আ.)-এর ২৯তম বংশধর। অর্থাৎ তিনি সরাসরি হাসানী বংশের চেরাগ। এজন্য তাঁর নেতৃত্বে সুন্নীয়তের ঐক্য প্রতিষ্ঠা ইমাম হাসান (আ.)-এর আত্মত্যাগের সাথে সরাসরি মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
দেশব্যাপী কোটি সুন্নী জনতা এ মহান ঐক্যের সংবাদে উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত। সর্বত্র থেকে দোয়া করা হচ্ছে—
“মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হুজুর কেবলাকে হায়াতে তৈয়্যিবা দান করুন, তাঁর মাধ্যমে সুন্নীয়তের পতাকা বিশ্বজুড়ে উড্ডীন হোক।”