মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
কাজী নজরুল ইসলাম শুধু প্রেম ও মানবতার কবি নন, তিনি ছিলেন দ্রোহের কবি, সংস্কারের কবি এবং ইসলামের চেতনার জীবন্ত কণ্ঠস্বর। উন্নত ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা ছিলেন তিনি। আমাদের জাতি যখন দিশেহারা, তখন তার লেখা হয়ে ওঠে পথপ্রদর্শক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি সময়ে নজরুলের লেখা ছিল প্রাসঙ্গিক।
নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীত জগতে ইসলামের আধ্যাত্মিক দিকটি তিনি গভীরভাবে ফুটিয়েছেন। তিনি অনেক হামদ, নাত, কীর্তন, শাহীদি গান এবং দরবারী গজল রচনা করেছেন, যা নবী ও আউলিয়াদের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ করে। ইসলামের শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর তার লেখা কবিতা ও গজল আজও মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে।
তিনি ইসলামী চেতনার সঙ্গে সমাজ সংস্কারেরও পথ দেখিয়েছেন। স্বাধীনতার সংগ্রাম, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি সময়ে তার গান ও কবিতা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, আন্দোলনের রাজপথে এনেছে। তবে শুধুই রাজনৈতিক নয়, নজরুলের কাব্য মানবিক দিককে আলোকিত করেছে, যা ইসলামের তৌহিদ ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করেছে।
নজরুলের রচনায় নবীজী (সা.) এবং আউলিয়াদের প্রতি গভীর ভালোবাসা লক্ষ্য করা যায়। তার নাত, হামদ এবং দরবারী গানগুলো মুসলিম সমাজে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি একদিকে ধর্মীয় চেতনা জাগিয়েছেন, অন্যদিকে সামাজিক অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে তার ক্ষুব্ধ কণ্ঠস্বর দিয়ে গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।
অতএব, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জন্য একদমই অনন্য প্রেরণা। তার চেতনা—মানবতার প্রতি ভালোবাসা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নবী ও আউলিয়াদের প্রতি শ্রদ্ধা—সব মিলিয়ে একটি উন্নত, ন্যায়সঙ্গত এবং ইসলামী মূল্যবোধে ভরা গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের আদর্শ হয়ে আছে। তাই তিনি শুধু অতীতের নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যতেরও এক অমূল্য পথপ্রদর্শক।