ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাগাচড়া গোলাম কিবরিয়া ফিলিংস স্টেশন মালিকদের সংবাদ সম্মেলন।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 21, 2025 ইং
বাগাচড়া গোলাম কিবরিয়া ফিলিংস স্টেশন মালিকদের সংবাদ সম্মেলন। ছবির ক্যাপশন: বাগাচড়া গোলাম কিবরিয়া ফিলিংস স্টেশন মালিকদের সংবাদ সম্মেলন।
ad728
বাগাচড়া গোলাম কিবরিয়া ফিলিংস স্টেশন মালিকদের সংবাদ সম্মেলন।

মালিকুজ্জামান কাকাঃ 

বাগাচড়া মেসার্স গোলাম  কিবরিয়া ফিলিংস স্টেশনের উত্তরাধিকার মালিকরা রবিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ডাঃ তনিমা তাসনুভা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাম্প মালিক গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার, ছেলে আল ফাইয়াজ কিবরিয়া,  ফারদিন কিবরিয়া ও ফাহমিদ কিবরিয়া। ডাঃ তনিমা তাসনুভা গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনকারীরা জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের পাম্প ম্যানেজারসহ কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে মারধোর করে ৮নং বাগাচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সদলবলে পাম্প দখল করে নেয়। পরদিন দুপুর নাগাদ শার্সা থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ পাম্প মূল মালিকদের বুঝ করে দেয়। পুলিশের তড়িৎ তৎপরতায় তারা খুশি। কিন্ত চিন্নিত ঠগ জোচ্চোর আনোয়ার তাদের হত্যা করে পাম্প দখলের অপচেস্টা চালিয়েই যাচ্ছে।

গোলাম কিবরিয়া ১৯৯৫ সালে যশোর জেলার শার্শা থানাধীন বাগআঁচড়া মৌজার ২৮৬৫ নং খতিয়ানে ৩৩৭৪ নং হাল দাগে ১৭ শতক জমি ক্রয় করেন। তিনি সেখানে "মেসার্স গোলাম কিবরিয়া ফিলিংস স্টেশন" নামে পেট্রোল পাম্প স্থাপন করেন। ভোগদখলে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

২০২২ সালে গোলাম কিবরিয়া মৃত্যুবরণ করেন। ২০২৩ সাল হতে বাগাচড়া বসতপুরের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন মেম্বার ওরফে আয়নাল হোসেনের নেতৃত্বে ধারাবাহিক পাম্প জবর দখলের চেষ্টা করছে। 

অভিযুক্তরা হচ্ছেন: ১. মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল হোসেন (৪৫); ২. মোঃ জামাল হোসেন (৫২); ৩. মোঃ ইব্রাহীম হোসেন (৩৪); ৪. মোঃ মাসুদ (২৮); ৫. মোঃ সোহাগ হোসেন (৩০)সহ অজ্ঞাত আরও ১২/১৩ জন। 

এরা জাল-জালিয়াতি করে জমি ও পাম্প জোরপূর্বক দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে উক্ত বিবাদীরা ফিলিং স্টেশনের গেটে হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা পাম্প ম্যানেজার আশরাফ আলী (৪০), (পিতা-মোঃ কলিম উদ্দিন সাং-বাদে নাভারণ, থানা-ঝিকরগাছা, জেলা-যশোর) এর কাছ থেকে পাম্পের সব চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় আনোয়ারের সহযোগী মাসুদ ম্যানেজারকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপানোর হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের সাথে ম্যানেজারের তর্কবিতর্ক হলে তাকে জোরপূর্বক পাম্প থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে পাম্পে আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকার তেল রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ঝুঁকির মধ্যে। 

ঘটনার পর ভুক্তভুগি মালিকরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ও পাম্প মালিক সমিতিকে বিষয়টি অবহিত করি। তাদের পরামর্শক্রমে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

যাদবপুরের ডাঃ তনিমা তাসনুমা (৩৪); বসতপুরের ১) মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল হোসেন (৪৫); ২) মোঃ জামাল হোসেন (৫২); উভয় পিতা- মৃত দুদু মিয়া, বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের ৩) ইব্রাহীম হোসেন (৩৪), পিতা-মফিজ উদ্দীন; বাগাচড়ার ৪) মাসুদ (২৮), পিতা-অজ্ঞাত; ৫) সোহাগ হোসেন (৩০), পিতা-অজ্ঞাতসহ অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

তিনি সাংবাদিকের মাধ্যমে এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। 

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত এই আনোয়ার প্রায় ৩০টি মামলার আসামি। বিচারকের স্বাক্ষর জাল, মিথ্যা জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ মামলার আসামি। কিবরিয়ার ছেলে মেয়েদের অপহরণ ও হত্যা প্রচেষ্টা মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সে শার্সা উপজেলা চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেনের লোক ছিল।

আওয়ামীলীগের সেল্টারে সে একের পর এক অপরাধ করেছে। এখন তার পরিচয় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে বিএনপিতে সে শার্সায় কার নেতৃত্বে তা জানা যায়নি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ মনিরুজ্জামান

কমেন্ট বক্স