ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পাঁচবিবিতে তিন ভাইয়ের গ্যালাক্সি জাতের ড্রাগন ফল চাষে ব্যাপক সাড়া।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 19, 2025 ইং
পাঁচবিবিতে তিন ভাইয়ের গ্যালাক্সি জাতের ড্রাগন ফল চাষে ব্যাপক সাড়া। ছবির ক্যাপশন: পাঁচবিবিতে তিন ভাইয়ের গ্যালাক্সি জাতের ড্রাগন ফল চাষে ব্যাপক সাড়া।
ad728
পাঁচবিবিতে তিন ভাইয়ের গ্যালাক্সি জাতের ড্রাগন ফল চাষে ব্যাপক সাড়া।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: 

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গ্যালাক্সি জাতের ড্রাগন ফল চাষাবাদ করে সাফল্য অর্জন করেছে সহদর তিন ভাই। পুরো উপজেলা জুড়ে সারা ফেলেছে তিন ভাই। ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিকের কর্মস্থান সৃষ্টি হয়েছে এই ড্রাগন বাগানে । 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাঁচবিবি-হিলি সড়কের চম্পাতলী ব্রীজের পশ্চিম পাশে বাগজানা ইউনিয়নের তালতলি গ্রামের তিন ভাই শিপলু, তুষার ও তুহিন ২০২৪ সালে ছোট যমুনা নদীর পার্শে^ ৪৫ বিঘা জমিতে বিশাল গ্যালাক্সি বাগানটি গড়ে তোলেন। 

তিন ভাই ২০২৫ সাল থেকে উন্নত জাতের গ্যালাক্সি ড্রাগন ফল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। উৎপাদিত ফল স্থানীয় এলাকার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। মেধা, শ্রম আতœবিশাস্ব এবং মহান আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে তারা এই বিশাল প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন। বিনিয়োগ করেছেন কোটি টাকার উপরে। সাফল্য যেন তাদের হাতে ধরা দিয়েছে। কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিকের। গ্যালাক্সি জাতের ড্রাগন ফল দেখতে লাল। খেতেও খুব সুস্বাধু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি। প্রথম দিকে মৎস চাষ করলেও ২০২১ সালে স্বল্প আকারে মাল্টা ও ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন তিন ভাই। ড্রাগন ফল লাভজনক ও বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় তারা বাগজানা মৌজায় এই বৃহৎ প্রকল্পটি হাতে নেন। 

নিয়মিত পরিচর্যা, গাছে খাবার পরিবেশন রোগ-বালাই দমনে কার্যক্রম চালান পুরোদমে। নিজের সন্তানের মতোই এটিকে লালন পালন করে থাকেন। বাগানে প্রবেশ করলে মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি যে কারো মন ভরে যাবে। নদী থেকে উঠে আসা ঝিরি ঝিরি বাতাসের ঠান্ডা হয়ে যায় শরীর। প্রকৃতির এক অপরুপ সাজে সজ্জিত। বাগানটি দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভীড় জমায়। কেউ আসছেন ড্রাগন ক্রয় করতে, আবার কেউ আসছেন প্রিয়জন নিয়ে ছবি তুলতে। নদীর পাড়ে এমন সুন্দর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষেরা। দেশে পুষ্টি সমৃদ্ধ উন্নত জাতের ফল চাষ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি করা গেলে আমদানীতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে যেমন। তেমনই অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাড়াবে। 

বিশাল আকারের ড্রাগন বাগানটির চারধারে রড সিমেন্টের পিলার ও জিআই তার দিয়ে মজবুত করে বেড়া তৈরি করেছে। বাগানে যাতায়াতে জন্য নদীর উপরে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ব্রীজও তৈরি করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের উচিৎ হবে এই কৃষি অর্থনীতি যোদ্ধাদের জন্য একটি বেইলি ব্রীজ নির্মানে সহায়তা প্রদান করা। 

ড্রাগন বাগানের একজন শ্রমিক বলেন,তালতলি এলাকায় গ্যালাক্সি ড্রাগন বাগান গড়ে উঠায় আমাদের কর্মস্থানে সুযোগ হয়েছে। আমরা ৪০ থেকে ৫০ জন ড্রাগন বাগানে কাজ করি। ড্রাগন বাগানে কাজ করে সংসার ভালোই চলে আমাদের। 

বাগানের মালিক তুহিন বলেন,বাগানে দুই থেকে তিন ধরনের ড্রাগন ফল আছে। বাংলাদেশের মাটি অনুযায়ী সবগুলো ড্রাগনেই লাল জাতের। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : মোঃ মনিরুজ্জামান

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কাজী নজরুল ইসলাম: গণতান্ত্রিক সমাজ ও ইসলামিক চেতনার কণ্ঠস্বর

কাজী নজরুল ইসলাম: গণতান্ত্রিক সমাজ ও ইসলামিক চেতনার কণ্ঠস্বর